তামার আংটি

ছোট্ট গ্রামের এক কুঁড়েঘরে বাস করে তিন ছেলে ও তাদের বাবা-মা। বড় ছেলের নাম কারিম, মেজো ছেলের নাম হাকিম ও ছোট ছেলের নাম ইভান। তাদের বাবা কৃষক।পরের জমিতে চাষ করে।এতে যা আয় হয়,তা দিয়েই কোনোমতে দিন কেটে যায়। 

এমনিতেই তাদের অভাব,সেই অভাব আরও বেড়ে গেলো। কারিম বললো,না,এ কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারবো না। আমি শহরে যাবো কাজ খুঁজতে। তার বাবা-মা তাকে অনেক আটকালো। কিন্তু সে কোনো কথাও শুনলো না।সে একদিন বেড়িয়ে গেল।১ ঘন্টা চলার পর,সে একটি গাছের তলায় বিশ্রামের জন্য বসলো।একটু পরে সে তার সামনে থেকে ১০০ হাত দূড়ে কে যেন এক অদ্ভুদ ভাবে বসে আছে। তার মনে কৌতূহল জাগলো।সে আর কৌতূহল চাপতে না পেরে এগুতে লাগলো।যখন সে পৌছলো,তখন একটা মানুষ বলছে, যে আমার একটি কাম করে দিতে পারবে তাকে আমি অনেক ধন দিবো। তার সারাজীবনের অভাব ঘুচে যাবে। কারিম বললো,কি কাম, আমি করবো।

মানুষটা বললো, সখিপুর গ্রামের শেষ মাথায় এক গুহা আছে। সেই গুহায় দুটো জ্বিন পাহাড়া দিবে। তুমি যেভাবে পারো,ওই গুহায় ঢুকতে হবে। সেখানে তুমি একটা বক্স পাবে। তার ভিতরে একটি তামার আংটি পাবে।সেই তামার আংটি আমাকে এনে দিতে হবে।আর হা জ্বিন দুটো মানুষের বিপদে সাহায্যে এগিয়ে আসে।এ কাম যদি করতে না পারো তাহলে তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। কারিম বললো,বেশ এনে দেবো।

কারিম যখন গেল,জ্বিন কে দেখে ভয়ে মানুষটির সব কথা ভুলে গেলো। কারিম বললো,জ্বিন বাবা আমি তোমার কাছে ছোট্ট একটি জিনিস চায়। জ্বিন বললো, আমাদের এ গুহায় একটি তামার আংটি ছাড়া কিছুই নাই। তাহলে তুমি সেটা চায়ছো।এ কথা বলেই পেটাতে শুরু করলো। কারিম কোনোমতে তাদের হাত থেকে পালালো।মারের চোটে সে আর চলতে পারে না।সে মানুষটির কাছে যেতে চাইলো না। কিন্তু কপাল খারাপ মানুষটি তাকে ধরে ফেলল।সে জিঙ্গেস করলো,আনতে পেরেছো?

কারিম বললো,না। মানুষটি তাকে ১০০ ঘা চাবুক মারলো। জ্বিনের মার আর মানুষটির মার খেয়ে কারিম আর এক পাও হাঁটতে পারে না।কোনোমতে সে তার বাড়ি গেলো। কারিমের এই হাল দেখে তার মা চিৎকার করে উঠলো। কারিম তখন সব কথা খুলে বললো। হাকিম বললো, আমিও একবার চেষ্টা করতে চায়।এ কথা বলেই সে বেড়িয়ে গেলো। সেও ১ ঘন্টা চলার পর একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসলো। কারিম যে গাছের তলায় বসেছিলো সেই গাছের নিচে। সেও দেখতে পেলো তার সামনে থেকে ১০০ হাত দূরে সেই মানুষটি অদ্ভুত ভাবে বসে আছে। তার মনেও কৌতূহল জাগলো কিন্তু সে আর কৌতূহল চাপতে পারলো না।সে এগিয়ে যেতে লাগলো। যখন সে পৌছলো, তখন মানুষটি একই কথা বলছিলো। হাকিম জিঙ্গেস করলো,কি কাম?

মানুষটি কারিমকে যা বলেছিলো, হাকিম কে তাই বললো।

হাকিম বললো,বেশ আমি আনবো।

হাকিম যখন গেলো তার বড় ভাই কারিমের মতই অবস্থা, জ্বিন কে দেখে ভয়ে মানুষটির সব কথা ভুলে গেলো। হাকিম বললো, জ্বিন আমাকে একটা তামার আংটি দিবা।

জ্বিন বললো,কি!এতো বড় স্পর্ধা।

তুমি আমাদের তামার আংটি নিবা। জ্বিন হাকিম কে ধরে এমন মারা মারলো, কারিমের চেয়েও খারাপ অবস্থা। কোনোমতে সে পালিয়ে আসলো।সে মানুষটির কাছে যেতে চাইলো না, কিন্তু কপাল খারাপ, মানুষটি তাকে ধরে ফেলল।সে জিঙ্গেস করলো,আনতে পেরেছো?

হাকিম বললো, না।

মানুষটি হাকিম কেও ১০০ঘা চাবুক মারলো।মারের চোটে সে আর হাঁটতেই পারে না। কোনোমতে সে তার বাড়ি এলো। হাকিমের এ হাল দেখে তার মা কাঁদতে লাগলো। হাকিম তখন সব কথা বলে দিলো। ইভান বললো, আমিও যাবো।

তার বাবা-মা ও বড় দুই ভাই তাকে আটকালো। কিন্তু সে কোনো কথাই শুনলো না।সে বেড়িয়ে গেলো।সে ১ঘন্টা চলার পর, কারিম ও হাকিম যে গাছের নিচে বসেছিল সেও একই গাছের নিচে বিশ্রামের জন্য বসলো।সেও দেখতে পেলো তার সামনে থেকে ১০০হাত দূরে সেই মানুষটি আরও অদ্ভুত ভাবে বসে আছে। তার মনে কৌতূহল জাগলো এবং সে কৌতূহল চাপতে না পেরে এগুতে লাগলো। যখন সে পৌছলো তখন সে শুনতে পেলো সেই মানুষটির একই কথা। ইভান জিঙ্গেস করলো,কি কাম?

মানুষটি কারিম ও হাকিম কে যা বলেছিলো ইভান কে তাই বললো। ইভান বললো, বেশ আমি এনে দিবো। ইভান অনেক চালাক ছিলো।সে যখন গুহার কাছে গেলো এবং সে জ্বিন কে বললো, ভাই জ্বিন এখান থেকে পাঁচ কি:মি: দূরে একদল মানুষ আমাকে মারার জন্য আসসে।আপনারা যদি সেখানে গিয়ে তাদের কে মেরে আসেন।তাহলে আমার খুবই উপকার হয়। জ্বিন বললো, ঠিক আছে। জ্বিন দুটো চলে গেল।এই অবসরে সে তামার আংটি নিয়ে পালিয়ে গেল। ওদিকে পাঁচ কি:মি: দূরে গিয়ে জ্বিন দেখলো কোনো মানুষ নাই। তারা বুঝতে পারলো ইভান তাদের কে মিথ্যা কথা বলেছে। তারা তাড়াতাড়ি তাদের গুহায় এলো। এসে দেখলো তামার আংটি নেই। আর সাথে সাথে তারা মরে গেলো। এদিকে ইভান আংটি নিয়ে মানুষটির কাছে চলে এলো এবং বললো,এই নিন আপনার আংটি। মানুষটি বললো,এই আংটি তুমি নাও।এই আংটি পরে যা চাইবে তাই পাবে।

ইভান বললো,আপনি তামার আংটি আনতে বললেন আর আমাকেই দিচ্ছেন এর কারণ কি?

মানুষটি বললো, ওই দুটো জ্বিন ছিল আমার ছেলে। আমিও এক জ্বিন। কে জানি কিভাবে তারা আমার চেয়ে শক্তিশালী হয়ে গেল। তারপর থেকে তারা বদমাশ হয়ে গেল। তাদেরকে কেউ মেরে ফেলতে পারছিলো না। শুধু একটাই শর্ত ছিল। কোনো মানুষ যদি তাদের তামার আংটি আনতে পারে তাহলে তারা মারা যাবে। আর তুমি সেটা আনতে পেরেছো সুতরাং, তারা মারা গেছে। এ কথা জ্বিনটি বলে গায়েব হয়ে গেলো। ইভান তার বাড়ি ফিরে এলো এবং তামার আংটি দ্বারা তাদের অভাব ঘুচে গেল এবং তাদের বাকি জীবন সূখে-শান্তিতে কেটে গেলো।